নিরেট স্বত্বা
নিরেট স্বত্বা
জ্বরের মাত্রা মাত্র ১০৩ ডিগ্রীতে এসে পৌঁছেছে, যাক বাঁচা গেলো ১০৪ এখন অব্দি স্পর্শ করেনি। মনে মনে এই কথা যখন ভাবছিল একটিবারের জন্যেও মনিমের মনে হল না যে তার এবার একটু ডাক্তার ডাকা উচিৎ, ওষুধপত্র গেলা উচিৎ। মনে না হওয়ার সবেধন নীলমণি একমাত্র যে কারণ তা হল, সে বছরের পর বছর সবাইকে বলতে কাহিল, “অতিথি বেড়াতে আসলে তাড়িয়ে দেবার মতো অভদ্রতা আমায় দিয়ে হবে না, থাকুক না, ঘুরুক, ফিরুক, ঘামুক, শুকাক, সময় হলে চলে যাবে নিজ থেকেই, না যেতে চাইলে তখন দু’তিনটে অ্যাজিথ্রোমাইসিন গিলিয়ে ঝাড়ু পেটা দিয়ে বিদেয় করবো নে”।
মনিম হাসান কর্ম জীবনে বিজনেস কনসাল্টেন্ট কিন্তু বড় শৌখিন কনসাল্টেন্ট, টাকা কামানোর উপরে হুমড়ি খেয়ে কনসালটেন্সি কখনো করে না, মনের দাসত্বে বন্দী রেখে যখন ইচ্ছে হয় তখন কোন একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করে, প্রজেক্ট শেষে আলস্যের সমুদ্রে কিছুদিন ডুব দিয়ে লুকিয়ে রাখে নিজেকে। অনেকেই বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজ নিয়ে কথা বলতে আসে, কলিং বেলের আওয়াজ শুনে কেউ এসেছে ভেবে বাতেনকে দরজা খুলতে ধমকাচ্ছিলেন, “বাতেন, এই বাতেন, এইইইই বাতেইন্নার বাচ্চা, কলিং বেলের চেঁচামেচি থামাইয়া দেখস না কেন কোন আজাব আসছে আবার”। ফিরে এসে বাতেন বললো, “এক বেডি আইছে আমনের কাছে স্যার, আমি কইছি স্যারের অখন শইল খারাপ পরে আইহেন কিন্তু উনি কয় উনার নাম কইলে আমনে চিনবেন, উনার নাম সইলই জাহান”। নাম শুনে ভ্রু কুঁচকে ধমকের সুরে মনিম বললো, “আহাম্মকের ডিব্বা ঐ মহিলার নাম হল শৈলী জাহান, আমি বিছানা থেকে উঠার শক্তি পাচ্ছি না, এই রুমে এনে বসা, আর তারপর চা নাস্তা কিছু বানাইস”।
শৈলী হন হন করে চলতে থাকা সময়ে হিসেব করে দেখল সতের বছর পেরিয়ে গিয়েছে মনিমকে শেষ দেখেছিল। রুমে এসে সোফাতে বসতে না বসতেই উঠে দাড়িয়ে গেলো সে, “কি হয়েছে তোমার, চৈত্রের গরমে মাঘের শীত লাগছে বুঝি? কম্বলে মুড়িয়ে রেখেছ কেন নিজেকে?” আচমকা শৈলীর স্বাভাবিক কথা বলার ভঙ্গিতে কিছুটা অবাক হলেও তা না বুঝতে দিয়ে স্বভাবগত ভাবে উত্তরে বললো, “আজরাইল ইমেইল করছিল গত পরশু, চৈত্র সংক্রান্তিতে আমার পরাণ খুইলা নিয়া যাবে তাই একটু প্র্যাকটিস করতেছি আর কি কম্বল মুড়ি দিয়া শুইয়া থাকার, কব্বর কব্বর ফিলিংস খোঁজার ট্রাই কইতে পারো, মুনকার নাকির কেরামান কাতেবিন যখন কুইজ কুইজ খেলবো তখন নিজেরে যাতে মানসিকভাবে শক্ত রাখতে পারি তাই এমনে ভং ধরছি, বুঝে আইছে তোমার?”
একটুও বদলায় নাই মনিম, সেই ধারালো জবাবে কথা বলার অভ্যাস এখনো নিজের ভিতরে ধারণ করে রেখেছে, হয়তো এমন স্বভাবের কারণেই সে চলে গিয়েছিল মনিম থেকে অনেক দূরে, যাকগে সেসব কথা। শৈলীর এখন মাথায় ঢুকল মনিম কেন এমন করে শুয়ে আছে, এখনো কি তাহলে মনিমের সিজনাল জ্বর হয় তাহলে এটাই সে ভাবছে মনে মনে। “আচ্ছা, তোমার এই সিজনাল জ্বর তুমি এখনো সারালে না কেন, আমাকে তো ফেরালে না জেদ করে তা বুঝলাম কিন্তু বছরের পর বছর হতে থাকা সিজনাল জ্বরকে তো অন্তত সারাতে পারতে? আমাকে তীব্র ঘৃণায় মন থেকে সরিয়ে ফেলতে পেরেছ যখন জ্বরকেই বা কেন আপন করে রাখলে?”
“কে বললো মন থেকে সরিয়ে ফেলছি তোমাকে, যে ইট দিয়ে মনে ইমারত গাঁথি তা কখনো আমি ভাঙ্গি না, আছো এখনো ঠিক ঐ ইমারতেই যেখানে একবার তোমাকে প্রবেশ করিয়েছি আর কখনো বের করি নাই সেখান থেকে কারণ নিজের গড়া ইমারত যেমন আমি ভাঙ্গি না ঠিক তেমন সে ইমারতে ঠাই দেয়া কাউকে দূর দূর করে তাড়িয়েও দিই না”। একদৃষ্টিতে কথাগুলো বলে অপলক চোখে তাকিয়ে থাকলো মনিম শৈলীর দিকে।
“আচ্ছা তবে এখনো আমাকে রেখেছ আগের মতো করেই ফিরে আসবো আবার আশা করে মনেতে?” বিজয়ীর হাসি মুখে করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল শৈলী।
“শৈলী, মনিম মনিমের ভালোবাসা ধারণ করে, হউক সে ভালোবাসা কোন ছলনাময়ীর জন্যে, তবে কখনই তাকে গ্রহণের আশায় না কারণ, যে থাকে নাই অতীতে তাকে গ্রহণের জন্যে ভাবা যায় না বর্তমানে ও ভবিষ্যতে”।
জ্বরের মাত্রা মাত্র ১০৩ ডিগ্রীতে এসে পৌঁছেছে, যাক বাঁচা গেলো ১০৪ এখন অব্দি স্পর্শ করেনি। মনে মনে এই কথা যখন ভাবছিল একটিবারের জন্যেও মনিমের মনে হল না যে তার এবার একটু ডাক্তার ডাকা উচিৎ, ওষুধপত্র গেলা উচিৎ। মনে না হওয়ার সবেধন নীলমণি একমাত্র যে কারণ তা হল, সে বছরের পর বছর সবাইকে বলতে কাহিল, “অতিথি বেড়াতে আসলে তাড়িয়ে দেবার মতো অভদ্রতা আমায় দিয়ে হবে না, থাকুক না, ঘুরুক, ফিরুক, ঘামুক, শুকাক, সময় হলে চলে যাবে নিজ থেকেই, না যেতে চাইলে তখন দু’তিনটে অ্যাজিথ্রোমাইসিন গিলিয়ে ঝাড়ু পেটা দিয়ে বিদেয় করবো নে”।
মনিম হাসান কর্ম জীবনে বিজনেস কনসাল্টেন্ট কিন্তু বড় শৌখিন কনসাল্টেন্ট, টাকা কামানোর উপরে হুমড়ি খেয়ে কনসালটেন্সি কখনো করে না, মনের দাসত্বে বন্দী রেখে যখন ইচ্ছে হয় তখন কোন একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করে, প্রজেক্ট শেষে আলস্যের সমুদ্রে কিছুদিন ডুব দিয়ে লুকিয়ে রাখে নিজেকে। অনেকেই বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজ নিয়ে কথা বলতে আসে, কলিং বেলের আওয়াজ শুনে কেউ এসেছে ভেবে বাতেনকে দরজা খুলতে ধমকাচ্ছিলেন, “বাতেন, এই বাতেন, এইইইই বাতেইন্নার বাচ্চা, কলিং বেলের চেঁচামেচি থামাইয়া দেখস না কেন কোন আজাব আসছে আবার”। ফিরে এসে বাতেন বললো, “এক বেডি আইছে আমনের কাছে স্যার, আমি কইছি স্যারের অখন শইল খারাপ পরে আইহেন কিন্তু উনি কয় উনার নাম কইলে আমনে চিনবেন, উনার নাম সইলই জাহান”। নাম শুনে ভ্রু কুঁচকে ধমকের সুরে মনিম বললো, “আহাম্মকের ডিব্বা ঐ মহিলার নাম হল শৈলী জাহান, আমি বিছানা থেকে উঠার শক্তি পাচ্ছি না, এই রুমে এনে বসা, আর তারপর চা নাস্তা কিছু বানাইস”।
শৈলী হন হন করে চলতে থাকা সময়ে হিসেব করে দেখল সতের বছর পেরিয়ে গিয়েছে মনিমকে শেষ দেখেছিল। রুমে এসে সোফাতে বসতে না বসতেই উঠে দাড়িয়ে গেলো সে, “কি হয়েছে তোমার, চৈত্রের গরমে মাঘের শীত লাগছে বুঝি? কম্বলে মুড়িয়ে রেখেছ কেন নিজেকে?” আচমকা শৈলীর স্বাভাবিক কথা বলার ভঙ্গিতে কিছুটা অবাক হলেও তা না বুঝতে দিয়ে স্বভাবগত ভাবে উত্তরে বললো, “আজরাইল ইমেইল করছিল গত পরশু, চৈত্র সংক্রান্তিতে আমার পরাণ খুইলা নিয়া যাবে তাই একটু প্র্যাকটিস করতেছি আর কি কম্বল মুড়ি দিয়া শুইয়া থাকার, কব্বর কব্বর ফিলিংস খোঁজার ট্রাই কইতে পারো, মুনকার নাকির কেরামান কাতেবিন যখন কুইজ কুইজ খেলবো তখন নিজেরে যাতে মানসিকভাবে শক্ত রাখতে পারি তাই এমনে ভং ধরছি, বুঝে আইছে তোমার?”
একটুও বদলায় নাই মনিম, সেই ধারালো জবাবে কথা বলার অভ্যাস এখনো নিজের ভিতরে ধারণ করে রেখেছে, হয়তো এমন স্বভাবের কারণেই সে চলে গিয়েছিল মনিম থেকে অনেক দূরে, যাকগে সেসব কথা। শৈলীর এখন মাথায় ঢুকল মনিম কেন এমন করে শুয়ে আছে, এখনো কি তাহলে মনিমের সিজনাল জ্বর হয় তাহলে এটাই সে ভাবছে মনে মনে। “আচ্ছা, তোমার এই সিজনাল জ্বর তুমি এখনো সারালে না কেন, আমাকে তো ফেরালে না জেদ করে তা বুঝলাম কিন্তু বছরের পর বছর হতে থাকা সিজনাল জ্বরকে তো অন্তত সারাতে পারতে? আমাকে তীব্র ঘৃণায় মন থেকে সরিয়ে ফেলতে পেরেছ যখন জ্বরকেই বা কেন আপন করে রাখলে?”
“কে বললো মন থেকে সরিয়ে ফেলছি তোমাকে, যে ইট দিয়ে মনে ইমারত গাঁথি তা কখনো আমি ভাঙ্গি না, আছো এখনো ঠিক ঐ ইমারতেই যেখানে একবার তোমাকে প্রবেশ করিয়েছি আর কখনো বের করি নাই সেখান থেকে কারণ নিজের গড়া ইমারত যেমন আমি ভাঙ্গি না ঠিক তেমন সে ইমারতে ঠাই দেয়া কাউকে দূর দূর করে তাড়িয়েও দিই না”। একদৃষ্টিতে কথাগুলো বলে অপলক চোখে তাকিয়ে থাকলো মনিম শৈলীর দিকে।
“আচ্ছা তবে এখনো আমাকে রেখেছ আগের মতো করেই ফিরে আসবো আবার আশা করে মনেতে?” বিজয়ীর হাসি মুখে করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল শৈলী।
“শৈলী, মনিম মনিমের ভালোবাসা ধারণ করে, হউক সে ভালোবাসা কোন ছলনাময়ীর জন্যে, তবে কখনই তাকে গ্রহণের আশায় না কারণ, যে থাকে নাই অতীতে তাকে গ্রহণের জন্যে ভাবা যায় না বর্তমানে ও ভবিষ্যতে”।



Comments
Post a Comment